গাইবান্ধায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস জালিয়াতি: ২৬ আসামির দুইদিন করে রিমান্ড।
- আপডেট সময় : ০১:৩৩:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৪৫ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬:
গাইবান্ধায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ জালিয়াতির ঘটনায় দায়ের করা সদর থানার মামলায় গ্রেপ্তার ২৬ জন আসামির প্রত্যেকের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে গাইবান্ধার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহান প্রত্যেক আসামির পাঁচদিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন আংশিক মঞ্জুর করে প্রত্যেকের জন্য দুইদিন করে রিমান্ড অনুমোদন দেন।
চক্রের মূলহোতা শনাক্তে ডিবির জোর তদন্ত
ডিবি সূত্র জানায়, রিমান্ডে এনে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ডিভাইস সরবরাহকারী, পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ মধ্যস্বত্বভোগী, প্রশ্ন সমাধানকারী এবং বাইরে থেকে রিয়েল-টাইম সহায়তা দেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তে জোর তদন্ত চালানো হবে। বিশেষ করে পরীক্ষার আগে ও চলাকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থ লেনদেনের উৎস এবং ডিভাইস সংগ্রহের চ্যানেল খতিয়ে দেখা হবে।
মামলার অগ্রগতি
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা সদর থানায় দায়ের করা মামলায় মোট আসামি ৪০ জন। এর মধ্যে ২৬ জন পুরুষ আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। ১১ জন নারী আসামির ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনায় ও শিশু সন্তানের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে রিমান্ড আবেদন করা হয়নি। মামলার তিনজন আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।
তিন উপজেলায় আটক ৫২ পরীক্ষার্থী, পাঁচটি মামলা
এদিকে গাইবান্ধা সদরসহ পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ মোট ৫২ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরদিন এসব ঘটনায় তিন থানায় মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়।
এর মধ্যে সদর থানার মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে। পলাশবাড়ী থানায় দায়ের করা তিনটি মামলায় ১২ আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সেখানেও পৃথকভাবে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান জানান,
“আমাদের থানায় দায়ের করা তিনটি মামলায় চার নারীসহ মোট ১২ আসামির মধ্যে নয়জনের সাতদিন এবং তিনজনের পাঁচদিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। আদালত এখনও শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেননি।”
ডিবির বক্তব্য
গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ইন্সপেক্টর নজরুল ইসলাম বলেন,
“সদর থানার মামলায় ২৬ আসামির পাঁচদিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। আদালত প্রত্যেকের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।”
তিনি আরও বলেন,
“রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুরো চক্রের নেটওয়ার্ক উন্মোচনের চেষ্টা করা হবে। কারা ডিভাইস সরবরাহ করেছে, কারা বাইরে থেকে প্রশ্ন সমাধান করেছে এবং কারা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছে—সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুনরাবৃত্তি হওয়া জালিয়াতি নিয়ে উদ্বেগ
একাধিকবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন সরকারি পরীক্ষায় গাইবান্ধায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসায় নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূলহোতাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘবদ্ধ জালিয়াতি প্রতিরোধ সম্ভব হবে।
পটভূমি
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলার সঙ্গে গাইবান্ধাতেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গাইবান্ধার ৪৩টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৪০০টির বেশি শূন্য পদের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নেন ২৭ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থী।










