শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কমিটির সভাপতি হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের আলোচনা
- আপডেট সময় : ০৫:২১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
- / ১৩২ বার পড়া হয়েছে

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রির বাধ্যবাধকতা শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এমনকি শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহছানুল হক মিলন–এর উপস্থিতিতে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি পুনর্গঠন বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা শিক্ষার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে না; বরং এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একসময় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন ছিল না। পরে ২০২৪ সালের মে মাসে প্রবিধানমালা সংশোধন করে সভাপতি হওয়ার জন্য ন্যূনতম উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আগস্টে যোগ্যতা আরও বাড়িয়ে গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়ার জন্য স্নাতকোত্তর বা চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার জন্য স্নাতক ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হয়।
এখন সেই যোগ্যতা শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। বৈঠকে উপস্থিত একটি শিক্ষা বোর্ডের একজন চেয়ারম্যান জানান, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কয়েক দিনের মধ্যে নির্দেশনা দিতে পারে।
এ ছাড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিয়োগে সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা থাকবে না—এ বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে তিনজনের নাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হবে। সেখান থেকে একজনকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করা হতে পারে।
দেশে বর্তমানে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে প্রায় ৩৫ হাজার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হয় গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান বলেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি বলেন, “যা ভালোভাবে চলছে, সেটিকে পেছনের দিকে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”










