সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাবের জরুরি সভা: এসিল্যান্ডের অপসারণ ও বিভাগীয় তদন্তের দাবি
- আপডেট সময় : ০২:১২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
- / ৯১ বার পড়া হয়েছে

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
তথ্য সংগ্রহ ও বক্তব্য নিতে গিয়ে দুই সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে সাদুল্লাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনের প্রত্যাহার এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন প্রেসক্লাব নেতারা।
রোববার (২১ জুন) বিকেলে সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ দাবি জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শাহজাহান সোহেল।
সভায় বক্তব্য দেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান পলাশ, সহ-সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল হোসেন জাকির, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম রেজা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম, সদস্য ছোলায়মান সরকার, সাইদুর রহমান, আব্দুল কাফি সরকার ও শামিম সর্দার।
বক্তারা বলেন, তথ্য সংগ্রহ ও সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণ সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ। এ দায়িত্ব পালনকালে কোনো সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। তারা অভিযোগ করেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও সেবা প্রত্যাশীদের হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়ে আসছে।
বক্তারা আরও বলেন, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে সংযত ও শালীন আচরণ প্রত্যাশিত। সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সভা থেকে অবিলম্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনকে সাদুল্লাপুর থেকে প্রত্যাহার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেন প্রেসক্লাব নেতারা।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটের হাসানপাড়া মৌজায় অর্পিত (সরকারি) সম্পত্তিকে ব্যক্তি মালিকানাধীন দেখিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের অভিযোগ এবং এ-সংক্রান্ত পরস্পরবিরোধী দুটি সরকারি প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে যান সময় সংবাদের প্রতিনিধি হেদায়েতুল ইসলাম বাবু এবং যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান পলাশ।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ সময় প্রশ্নের জবাব না দিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীন অসংযত আচরণ করেন এবং তাদের কার্যালয় ত্যাগ করতে বলেন।
ঘটনার ভিডিও ও সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার। এর ধারাবাহিকতায় রোববার গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আশরাফুল ইসলাম। তদন্তকালে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বক্তব্য গ্রহণ ও রেকর্ড করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখা প্রশাসনের দায়িত্ব। তারা আশা প্রকাশ করেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।










