ঢাকা ০৪:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় নাকাল গাইবান্ধা, বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ।

  • আপডেট সময় : ০৫:৪৪:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৭৪ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডার দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাইবান্ধার জনজীবন। টানা এক সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। সকাল গড়ালেও চারপাশ ঢেকে থাকছে কুয়াশার চাদরে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় শহর-গ্রাম, নদীতীর ও চরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে।

এই শীতের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। রিকশাচালক, অটোভ্যানচালক, দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের ভোরের কুয়াশা ভেদ করেই কাজে বের হতে হচ্ছে। তবে তীব্র ঠান্ডা ও কাজের স্বল্পতায় অনেকের আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

সাদুল্লাপুর উপজেলার অটোভ্যানচালক আয়নাল মিয়া বলেন, ভোরে কাজে বের হলেও যাত্রী মেলে না। শীতে হাত-পা অবশ হয়ে আসে, তবু সংসারের তাগিদে কাজ করতে হয়।

গ্রামাঞ্চলেও একই চিত্র। কুয়াশার কারণে মাঠঘাট স্পষ্ট দেখা যায় না। আমন ধান কাটা শেষ হলেও খড় সংগ্রহ ও জমি প্রস্তুতির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। দিনমজুরদের কাজ কমে যাওয়ায় মজুরি নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সবজিক্ষেতেও ঘন কুয়াশার প্রভাবে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র, গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নীলুফার ইয়াসমিন শিল্পী জানান, নদীতীর ও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ তুলনামূলকভাবে বেশি। অনেক দরিদ্র পরিবারে এখনও পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। শীত বাড়ায় ছিন্নমূল মানুষের ভিড় বেড়েছে পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতে।

শীতের প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। ঘন কুয়াশায় সকালে দৃশ্যমানতা কম থাকায় অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুলে যেতে পারছে না। বিশেষ করে চর ও প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদের ভোগান্তি বেশি।

এদিকে কুয়াশার কারণে সড়ক ও নদীপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। যানবাহন চলছে ধীরগতিতে, নৌযান চলাচলেও নেওয়া হয়েছে সতর্কতা।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং আগামী কয়েকদিন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় খেটে খাওয়া মানুষ ও চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণসহ সহায়তা জোরদারের দাবি উঠেছে।

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, চলতি শীত মৌসুমে জেলায় ২২ হাজার ৬০০টি কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সাতটি উপজেলায় জনসংখ্যার ভিত্তিতে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় নাকাল গাইবান্ধা, বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ।

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডার দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাইবান্ধার জনজীবন। টানা এক সপ্তাহ ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। সকাল গড়ালেও চারপাশ ঢেকে থাকছে কুয়াশার চাদরে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় শহর-গ্রাম, নদীতীর ও চরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে।

এই শীতের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। রিকশাচালক, অটোভ্যানচালক, দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের ভোরের কুয়াশা ভেদ করেই কাজে বের হতে হচ্ছে। তবে তীব্র ঠান্ডা ও কাজের স্বল্পতায় অনেকের আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

সাদুল্লাপুর উপজেলার অটোভ্যানচালক আয়নাল মিয়া বলেন, ভোরে কাজে বের হলেও যাত্রী মেলে না। শীতে হাত-পা অবশ হয়ে আসে, তবু সংসারের তাগিদে কাজ করতে হয়।

গ্রামাঞ্চলেও একই চিত্র। কুয়াশার কারণে মাঠঘাট স্পষ্ট দেখা যায় না। আমন ধান কাটা শেষ হলেও খড় সংগ্রহ ও জমি প্রস্তুতির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। দিনমজুরদের কাজ কমে যাওয়ায় মজুরি নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সবজিক্ষেতেও ঘন কুয়াশার প্রভাবে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।

বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্র, গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নীলুফার ইয়াসমিন শিল্পী জানান, নদীতীর ও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ তুলনামূলকভাবে বেশি। অনেক দরিদ্র পরিবারে এখনও পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র নেই। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। শীত বাড়ায় ছিন্নমূল মানুষের ভিড় বেড়েছে পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতে।

শীতের প্রভাব পড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও। ঘন কুয়াশায় সকালে দৃশ্যমানতা কম থাকায় অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুলে যেতে পারছে না। বিশেষ করে চর ও প্রত্যন্ত এলাকার শিশুদের ভোগান্তি বেশি।

এদিকে কুয়াশার কারণে সড়ক ও নদীপথে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। যানবাহন চলছে ধীরগতিতে, নৌযান চলাচলেও নেওয়া হয়েছে সতর্কতা।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং আগামী কয়েকদিন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় খেটে খাওয়া মানুষ ও চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত শীতবস্ত্র বিতরণসহ সহায়তা জোরদারের দাবি উঠেছে।

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, চলতি শীত মৌসুমে জেলায় ২২ হাজার ৬০০টি কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সাতটি উপজেলায় জনসংখ্যার ভিত্তিতে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

শেয়ার করুন