ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

সাদুল্লাপুরে বিদ্যালয়ের পাশেই একাধিক অবৈধ ইটভাটা: ঝুঁকিতে শিক্ষার্থী, বিপর্যস্ত পরিবেশ।

  • আপডেট সময় : ০৪:৪৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১৯৫ বার পড়া হয়েছে

সাদুল্লাপুরে বিদ্যালয়ের পাশেই একাধিক অবৈধ ইটভাটা: ঝুঁকিতে শিক্ষার্থী, বিপর্যস্ত পরিবেশ।

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সন্নিকটে গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ ইটভাটা। এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়া, পোড়ানোর সময় ছড়িয়ে পড়া ছাই, মাটি বহনকারী ট্রাকের অবাধ চলাচল এবং কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে নেওয়ার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে একদিকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ ও আবাদি জমি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পাশে স্থাপিত অধিকাংশ ইটভাটারই পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন নেই। তবুও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বছরের পর বছর ধরে এসব ভাটা পরিচালিত হচ্ছে। ভাটার চিমনি থেকে নির্গত ঘন ধোঁয়ায় শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্ট, কাশি, চোখ জ্বালাপোড়া ও মাথাব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ক্লাস চলাকালীন সময়েও ধোঁয়ার কারণে দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে হয়। এতে গরমের মধ্যে শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেক সময় খেলাধুলাও বন্ধ রাখতে হয়, যা শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“বিদ্যালয়ের পাশে ইটভাটা থাকায় আমাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত এসব অবৈধ ভাটা অপসারণ না করলে শিক্ষার পরিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, ইট তৈরির জন্য কৃষিজমির উর্বর টপ সয়েল কেটে নেওয়ায় ফসলি জমির উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। আশপাশের জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ভারী যানবাহনের চলাচলে গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা সড়ক ভেঙে পড়ছে এবং ধুলাবালির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে।

উপজেলার যেসব এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে ইটভাটা গড়ে উঠেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • মেসার্স আর অ্যান্ড ব্রিক্স – জামালপুর ইউনিয়নের তরফবাজিত গ্রাম

  • মেসার্স এম এস বি ব্রিকস – ইদিলপুর ইউনিয়নের একবারপুর ও কুঞ্জমহিপুর

  • মেসার্স এস আই বি ব্রিক্স – শেরপুর এলাকা

  • মেসার্স এফ ব্রিক্স – ধাপেরহাট ইউনিয়নের আলীনগর সংলগ্ন

  • মেসার্স আনোয়ারা ব্রিকস – ফরিদপুর ইউনিয়নের ঘেগার বাজার সংলগ্ন

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ইটভাটার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এলাকাবাসীর জোর দাবি—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ থেকে অবৈধ ইটভাটা দ্রুত উচ্ছেদ করে শিশুদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও দূষণমুক্ত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাদুল্লাপুরে বিদ্যালয়ের পাশেই একাধিক অবৈধ ইটভাটা: ঝুঁকিতে শিক্ষার্থী, বিপর্যস্ত পরিবেশ।

আপডেট সময় : ০৪:৪৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি :
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সন্নিকটে গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ ইটভাটা। এসব ইটভাটার কালো ধোঁয়া, পোড়ানোর সময় ছড়িয়ে পড়া ছাই, মাটি বহনকারী ট্রাকের অবাধ চলাচল এবং কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে নেওয়ার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে একদিকে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ ও আবাদি জমি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পাশে স্থাপিত অধিকাংশ ইটভাটারই পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন নেই। তবুও প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বছরের পর বছর ধরে এসব ভাটা পরিচালিত হচ্ছে। ভাটার চিমনি থেকে নির্গত ঘন ধোঁয়ায় শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্ট, কাশি, চোখ জ্বালাপোড়া ও মাথাব্যথাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ক্লাস চলাকালীন সময়েও ধোঁয়ার কারণে দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে হয়। এতে গরমের মধ্যে শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। অনেক সময় খেলাধুলাও বন্ধ রাখতে হয়, যা শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“বিদ্যালয়ের পাশে ইটভাটা থাকায় আমাদের সন্তানদের স্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত এসব অবৈধ ভাটা অপসারণ না করলে শিক্ষার পরিবেশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, ইট তৈরির জন্য কৃষিজমির উর্বর টপ সয়েল কেটে নেওয়ায় ফসলি জমির উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। আশপাশের জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ভারী যানবাহনের চলাচলে গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা সড়ক ভেঙে পড়ছে এবং ধুলাবালির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠছে।

উপজেলার যেসব এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে ইটভাটা গড়ে উঠেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • মেসার্স আর অ্যান্ড ব্রিক্স – জামালপুর ইউনিয়নের তরফবাজিত গ্রাম

  • মেসার্স এম এস বি ব্রিকস – ইদিলপুর ইউনিয়নের একবারপুর ও কুঞ্জমহিপুর

  • মেসার্স এস আই বি ব্রিক্স – শেরপুর এলাকা

  • মেসার্স এফ ব্রিক্স – ধাপেরহাট ইউনিয়নের আলীনগর সংলগ্ন

  • মেসার্স আনোয়ারা ব্রিকস – ফরিদপুর ইউনিয়নের ঘেগার বাজার সংলগ্ন

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ইটভাটার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এলাকাবাসীর জোর দাবি—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ থেকে অবৈধ ইটভাটা দ্রুত উচ্ছেদ করে শিশুদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও দূষণমুক্ত শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।

শেয়ার করুন