নতুন পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ
- আপডেট সময় : ০৬:০০:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৮৮ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট:
প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বনিম্ন মূল বেতন দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে পে-কমিশন। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া চিকিৎসা ভাতা ৪০ বছরের নিচে কর্মরতদের জন্য মাসিক ৪ হাজার টাকা এবং ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে কর্মরতদের জন্য ৪ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। অবসরে যাওয়ার পরও সংশ্লিষ্টরা নির্ধারিত হারে এই চিকিৎসা ভাতা পাবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পে-কমিশনের প্রতিবেদনটি প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে এবং আগামী ২১ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কমিশন সূত্র জানায়, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় এক লাখ কোটি টাকা হতে পারে। বর্তমানে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে কর্মরত আছেন প্রায় ১৫ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী। সর্বশেষ ২০১৫ সালে তাদের বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর গত জুলাই মাসে অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে-কমিশন গঠন করে, যাদের ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এবারের প্রতিবেদনে গ্রেড সংখ্যা কমানো বা বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১৪৪ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে ৮ হাজার ২০০ টাকা মূল বেতন বেড়ে দাঁড়াবে ২০ হাজার টাকায়। ভাতাসহ একজন কর্মচারীর মোট মাসিক বেতন প্রায় ৪২ হাজার টাকা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বর্তমানে সর্বোচ্চ মূল বেতন পান সচিবরা, যা ৭৮ হাজার টাকা। নতুন প্রস্তাবে তা ১০৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। ভাতা ও আনুতোষিক যুক্ত হলে একজন সচিবের মোট মাসিক বেতন তিন লাখ টাকা ছাড়াতে পারে।
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা। তবে পে-কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে এই ব্যয় আরও প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও সংশোধিত বাজেটে অর্থ মন্ত্রণালয় এ খাতে অতিরিক্ত প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
“এত বড় ব্যয়ের সক্ষমতা সরকারের আছে কি না এবং এর আর্থিক চাপ সাধারণ জনগণ কতটা বহন করতে পারবে—তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।”
একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরাও। সব মিলিয়ে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হলেও, এর আর্থিক প্রভাব ও বাজেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।










