প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক, নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।
- আপডেট সময় : ০৫:৩৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৩৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।
উপদেষ্টাদের উপস্থিতি
বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন—
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ,
গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান,
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে আলোচনা
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবে দলটি। ইতোমধ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা শুরু হয়েছে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচন ও গণভোট—দুটি ক্যাম্পেইন একসঙ্গে চলবে।
ড. ইউনূসের বক্তব্য
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,
“যেভাবেই হোক আমাদের ভালো নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত আমাদের জানাবেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনব।”
তিনি জানান, সরকার প্রয়োজনে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও বডি ক্যামেরা
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে ড. ইউনূস বলেন,
“খুব দ্রুত অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। জানুয়ারির মধ্যেই এসব ক্যামেরা ইনস্টল সম্পন্ন হবে।”
তিনি আরও জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা থাকবে এবং একটি কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। সব ফুটেজ রেকর্ড থাকবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচার আইনসম্মত
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন,
“এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি—এতে কোনো আইনি বাধা নেই। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব সংস্কারের পক্ষে থাকা।”
নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই
ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন,
“যে যাই বলুক না কেন, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। এবারের নির্বাচন কোনো গোঁজামিলের নির্বাচন হবে না।”
তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর করতে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সব রাজনৈতিক দলকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
হটলাইন ও বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ
প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন উপলক্ষে একটি হটলাইন নম্বর চালু থাকবে, যেখানে সব ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভূত বিরোধ নিষ্পত্তিতে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঐক্যের আহ্বান
নির্বাচনে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে নির্বাচন সফল ও দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।










