যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের ২০০ বছরের দলিল পুড়ে ছাই: বিদ্যুৎহীন ভবনে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড।
- আপডেট সময় : ০৯:৩১:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২৫৪ বার পড়া হয়েছে

যশোর জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো ভবনে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ২০০ বছরের পুরনো গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুনে ১৭৪১ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত সংরক্ষিত ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড ধ্বংস হয়েছে।
‘পুরো রেকর্ড রুম পুড়ে ছাই’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার শামসুজ্জামান মিলন জানান, তিনি আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভেতরে ঢুকে দেখতে পান, পুরনো সমস্ত কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কিছু কাগজ অবশিষ্ট থাকলেও সেগুলো আগুন নেভানোর পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, ওই রেকর্ড রুমে যশোরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় দুই শতাব্দীর দলিল সংরক্ষিত ছিল। খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই ভবনের দরজা খোলা হতো না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
নৈশপ্রহরী অনুপস্থিত, তালাবদ্ধ ভবনে আগুন
যশোর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন বলেন, আগুন লাগার সময় ভবনের গেটে তালা দেওয়া ছিল। সেখানে হিরা নামের এক নৈশপ্রহরীর দায়িত্ব থাকার কথা থাকলেও আগুনের সময় তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। বাইরে থেকে আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।
তিনি বলেন, “ক্ষতির পরিমাণ অনেক বড় হতে পারে। তবে সবকিছু ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ না করে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাবে না।”
ফায়ার সার্ভিস: বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না
যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানান, আগুনের সংবাদ পেয়ে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। ভবনের গেট তালাবদ্ধ থাকায় তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়।
তিনি বলেন, “পুরনো ভবনের দুটি কক্ষে রাখা কাগজ ও দলিলপত্র পুড়ে গেছে। প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত ছাড়া বলা সম্ভব নয়।”
তবে বিদ্যুৎ সংযোগহীন ও তালাবদ্ধ ঘরে কীভাবে আগুন লাগলো—এই প্রশ্নে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগের সন্দেহ
রেজিস্ট্রি অফিসের একটি সূত্র জানায়, ভবনটিতে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ না থাকায় শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা নেই। ফলে এটি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ হতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সূত্রটি আরও জানায়, নৈশপ্রহরী হিরা এবং সাইফুল ও মিলন নামে আরও দুই কর্মীর আচরণ সন্দেহজনক। পুলিশ প্রশাসন গভীরভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঐতিহাসিক দলিল ধ্বংস, তদন্তের দাবি
প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহাসিক দলিল ধ্বংসের ঘটনায় স্থানীয় আইনজীবী, দলিল লেখক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও দায়ীদের শনাক্তের দাবি উঠেছে।










