ঢাকা ১২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

সাঘাটার কামালের পাড়া ইউনিয়নে অবৈধ কয়লা কারখানার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ক্ষোভ

Md Khirul Basar
  • আপডেট সময় : ০২:০৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ১৮০ বার পড়া হয়েছে

৮ (আট) নম্বর ওয়ার্ডে চলে ৩০ (ত্রিশ) টি চুলা।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি,

গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার কামালের পাড়া ইউনিয়নে অবৈধ কয়লা কারখানা গড়ে ওঠায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। কোনো প্রকার বৈধ অনুমোদন ছাড়াই এসব কারখানা পরিচালিত হওয়ায় পরিবেশ, কৃষি এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি অবৈধ কয়লা কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানা থেকে প্রতিনিয়ত কালো ধোঁয়া নির্গত হয়ে বাতাস দূষিত করছে। ধোঁয়ার প্রভাবে আশপাশের ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পানির উৎস দূষণের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা-পোড়া এবং চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ছে।

সরেজমিন দেখা যায়,পাছগরগড়ীয়া গ্রামের এমদাদুল হক, বাবলু মিয়া,
ফিরোজ কবির (রাশেদ মিয়া),জুয়েল মিয়া,সুমন মিয়া ওরফে ফেলু এবং চাকুলী গ্রামের রায়হান ও সোহাগ নামের ব্যক্তিরা কারখানা গুলি চালাচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় কৃষক আবদুল করিম বলেন, “আমাদের ফসল ঠিকমতো হচ্ছে না। কয়লার ধোঁয়ায় জমির ধান ও শাকসবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা পরিবার চালাবো কিভাবে?”

অন্য এক বাসিন্দা রাশেদা খাতুন জানান, “দিনরাত ধোঁয়ার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। বাচ্চারা কাশি-শ্বাসকষ্টে ভুগছে। অথচ কারখানার মালিকরা কোনো নিয়ম মানে না।”

স্থানীয় যুবক রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই কয়লা কারখানা পুরো এলাকায় বিষ ছড়াচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক, নইলে ভবিষ্যতে বড় বিপদ হবে।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবৈধ কয়লা কারখানার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তদন্ত চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর একমাত্র দাবি—অবৈধ কয়লা কারখানা দ্রুত বন্ধ করে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সাঘাটার কামালের পাড়া ইউনিয়নে অবৈধ কয়লা কারখানার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ক্ষোভ

আপডেট সময় : ০২:০৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

৮ (আট) নম্বর ওয়ার্ডে চলে ৩০ (ত্রিশ) টি চুলা।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি,

গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার কামালের পাড়া ইউনিয়নে অবৈধ কয়লা কারখানা গড়ে ওঠায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। কোনো প্রকার বৈধ অনুমোদন ছাড়াই এসব কারখানা পরিচালিত হওয়ায় পরিবেশ, কৃষি এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি অবৈধ কয়লা কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব কারখানা থেকে প্রতিনিয়ত কালো ধোঁয়া নির্গত হয়ে বাতাস দূষিত করছে। ধোঁয়ার প্রভাবে আশপাশের ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পানির উৎস দূষণের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা-পোড়া এবং চর্মরোগের প্রকোপ বাড়ছে।

সরেজমিন দেখা যায়,পাছগরগড়ীয়া গ্রামের এমদাদুল হক, বাবলু মিয়া,
ফিরোজ কবির (রাশেদ মিয়া),জুয়েল মিয়া,সুমন মিয়া ওরফে ফেলু এবং চাকুলী গ্রামের রায়হান ও সোহাগ নামের ব্যক্তিরা কারখানা গুলি চালাচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় কৃষক আবদুল করিম বলেন, “আমাদের ফসল ঠিকমতো হচ্ছে না। কয়লার ধোঁয়ায় জমির ধান ও শাকসবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা পরিবার চালাবো কিভাবে?”

অন্য এক বাসিন্দা রাশেদা খাতুন জানান, “দিনরাত ধোঁয়ার মধ্যে থাকতে হচ্ছে। বাচ্চারা কাশি-শ্বাসকষ্টে ভুগছে। অথচ কারখানার মালিকরা কোনো নিয়ম মানে না।”

স্থানীয় যুবক রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই কয়লা কারখানা পুরো এলাকায় বিষ ছড়াচ্ছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক, নইলে ভবিষ্যতে বড় বিপদ হবে।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অবৈধ কয়লা কারখানার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তদন্ত চলছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এলাকাবাসীর একমাত্র দাবি—অবৈধ কয়লা কারখানা দ্রুত বন্ধ করে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।

শেয়ার করুন