রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার দরবারে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অর্ধশতাধিক
- আপডেট সময় : ০৫:০৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ২৫১ বার পড়া হয়েছে

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলার দরবারে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অর্ধশতাধিক
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবার শরিফে ভয়াবহ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় রাসেল মোল্লা (২৮) নামের এক খাদেম নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ আগস্ট) জুমার নামাজের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক দফায় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হন।
কীভাবে ঘটনা শুরু
গত ২৩ আগস্ট বার্ধক্যে মারা যান নুরাল পাগলা। পরে ভক্তরা বিশেষ কায়দায় তাঁর লাশ দরবার শরিফে উঁচু স্থানে দাফন করেন। বিষয়টি শরিয়তবিরোধী বলে অভিযোগ তুলে কবর সমতল করার দাবি জানায় স্থানীয় আলেম সমাজ ও উপজেলা ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি। বৃহস্পতিবারের মধ্যে দাবি না মানলে শুক্রবার কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তারা।
সংঘর্ষের বিস্তারিত
শুক্রবার জুমার নামাজের পর আনসার ক্লাব মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশে শত শত মানুষ জড়ো হন। সমাবেশ চলাকালে উত্তেজিত একদল লোক লাঠিসোঁটা, হাতুড়ি ও শাবল নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং দুটি গাড়ি ও ইউএনওর গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে তারা দরবার শরিফে প্রবেশের চেষ্টা করলে নুরাল পাগলার ভক্তদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিকেল পাঁচটার দিকে উত্তেজিতরা কবর থেকে নুরাল পাগলার মরদেহ তুলে এনে মহাসড়কের ওপর পুড়িয়ে দেয়।
হতাহত ও নিহতের পরিচয়
সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন, তাঁদের মধ্যে পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় রাসেল মোল্লা (২৮) কে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত রাসেল গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং দরবারের খাদেম ছিলেন।
প্রশাসনের অবস্থান
ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।”
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদুর রহমান জানান, প্রশাসন সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, “শুনেছি একজন মারা গেছেন, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”
পারিবারিক প্রতিক্রিয়া
নুরাল পাগলার ছেলে মেহেদী নূর জিলানী বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা চালানো হচ্ছে। বাবার নির্দেশ অনুযায়ী ইসলামের বিধান মেনে কিছুটা উঁচুতে দাফন করা হয়েছিল। কবর সমতল করার বিষয়ে ভক্তদের সঙ্গে আলোচনা চলছিল।”










