ঢাকা ০১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

পুলিশের দু*র্নীতির বিরুদ্ধে বিস্ফো*রক অভিযোগ এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর।

  • আপডেট সময় : ০২:২৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১০৪ বার পড়া হয়েছে

পুলিশের দু*র্নীতির বিরুদ্ধে বিস্ফো*রক অভিযোগ এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর।

নিজস্ব প্রতিবেদক | কুমিল্লা

কুমিল্লার দেবিদ্বারে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই থানার অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও দালাল সিন্ডিকেট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি সরাসরি থানার সেকেন্ড অফিসারকে ‘ফুললি করাপ্টেড’ আখ্যা দিয়ে ওসিকে থানা দালালমুক্ত করার কড়া নির্দেশ দেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনেই বিস্ফোরক বক্তব্য

সভায় উপস্থিত থাকা দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানের সামনেই এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ থানার সেকেন্ড অফিসার মতিন ও এসআই ভবতোষের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ আনেন।

তিনি বলেন,
“ওসি সাহেব আন্তরিক হলেও তার অফিসাররা আন্তরিক না। ওনার সেকেন্ড অফিসার হচ্ছেন ফুললি করাপ্টেড। টাকা ছাড়া ওনার কোনো পা চলে না। এসআই ভবতোষের অবস্থাও একই। টাকা ছাড়া তারা কোনো কাজ করেন না। কেউ ধরতে গেলে থানা থেকেই আগাম ফোন দিয়ে সতর্ক করা হয়। এতে এখানে চোর-পুলিশ খেলা চলে।”

‘থানা চালায় হেলাল’ — দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ

তিনি আরও বলেন,
“আপনার থানা আপনি চালান না, চালায় হেলাল। আমি ফ্যাক্ট বেইজ কথা বলছি। কোনো মামলা রুজু হবে, কোনটা হবে না— সব সিদ্ধান্ত নেয় একজন দালাল। একজন অচাকরিজীবী ব্যক্তি যদি থানা চালায়, এটা ভয়াবহ অবস্থা।”

তিনি দাবি করেন, থানায় ঢুকতে সাধারণ মানুষ ভয় পায়, কারণ আগে দালালদের কাছে যেতে হয়। এতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

দালালমুক্ত থানা গড়ার কড়া নির্দেশ

ওসিকে উদ্দেশ্য করে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন,
“আজকের পর থেকে আপনার থানা চালাবেন আপনি। কোনো দালাল ঢুকতে পারবে না। জনগণ যেন সরাসরি আপনার কাছে যেতে পারে। লিগ্যাল বিষয়ে সহযোগিতা করবেন, কিন্তু ইলিগ্যাল কোনো কাজে কারো সঙ্গে আপস করবেন না।”

তিনি আরও বলেন,
“গত এক বছর ধরে আমি সাংবাদিক ও সিভিল সোসাইটির সঙ্গে কথা বলে বিষয়গুলো যাচাই করেছি। এখানে একটি শক্তিশালী দালাল ও মাদক সিন্ডিকেট কাজ করছে। এগুলো ভেঙে ফেলতেই হবে।”

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পুলিশের দু*র্নীতির বিরুদ্ধে বিস্ফো*রক অভিযোগ এমপি হাসনাত আবদুল্লাহর।

আপডেট সময় : ০২:২৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | কুমিল্লা

কুমিল্লার দেবিদ্বারে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই থানার অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও দালাল সিন্ডিকেট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি সরাসরি থানার সেকেন্ড অফিসারকে ‘ফুললি করাপ্টেড’ আখ্যা দিয়ে ওসিকে থানা দালালমুক্ত করার কড়া নির্দেশ দেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনেই বিস্ফোরক বক্তব্য

সভায় উপস্থিত থাকা দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানের সামনেই এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ থানার সেকেন্ড অফিসার মতিন ও এসআই ভবতোষের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ আনেন।

তিনি বলেন,
“ওসি সাহেব আন্তরিক হলেও তার অফিসাররা আন্তরিক না। ওনার সেকেন্ড অফিসার হচ্ছেন ফুললি করাপ্টেড। টাকা ছাড়া ওনার কোনো পা চলে না। এসআই ভবতোষের অবস্থাও একই। টাকা ছাড়া তারা কোনো কাজ করেন না। কেউ ধরতে গেলে থানা থেকেই আগাম ফোন দিয়ে সতর্ক করা হয়। এতে এখানে চোর-পুলিশ খেলা চলে।”

‘থানা চালায় হেলাল’ — দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ

তিনি আরও বলেন,
“আপনার থানা আপনি চালান না, চালায় হেলাল। আমি ফ্যাক্ট বেইজ কথা বলছি। কোনো মামলা রুজু হবে, কোনটা হবে না— সব সিদ্ধান্ত নেয় একজন দালাল। একজন অচাকরিজীবী ব্যক্তি যদি থানা চালায়, এটা ভয়াবহ অবস্থা।”

তিনি দাবি করেন, থানায় ঢুকতে সাধারণ মানুষ ভয় পায়, কারণ আগে দালালদের কাছে যেতে হয়। এতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

দালালমুক্ত থানা গড়ার কড়া নির্দেশ

ওসিকে উদ্দেশ্য করে এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন,
“আজকের পর থেকে আপনার থানা চালাবেন আপনি। কোনো দালাল ঢুকতে পারবে না। জনগণ যেন সরাসরি আপনার কাছে যেতে পারে। লিগ্যাল বিষয়ে সহযোগিতা করবেন, কিন্তু ইলিগ্যাল কোনো কাজে কারো সঙ্গে আপস করবেন না।”

তিনি আরও বলেন,
“গত এক বছর ধরে আমি সাংবাদিক ও সিভিল সোসাইটির সঙ্গে কথা বলে বিষয়গুলো যাচাই করেছি। এখানে একটি শক্তিশালী দালাল ও মাদক সিন্ডিকেট কাজ করছে। এগুলো ভেঙে ফেলতেই হবে।”

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন