গাইবান্ধায় গৃহবধূর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার: স্বামী পলাতক
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬
- / ১০৪ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্যাতনের অভিযোগে আমেনা বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে পালিয়ে গেছেন তার স্বামী হানিফ মিয়া।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের পূর্ব ফরিদপুর গ্রাম থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আমেনার মরদেহ উদ্ধার করে পলাশবাড়ী থানা পুলিশ। এর আগে রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে ঘটনাটি ঘটে। নিহত আমেনা বেগম হানিফ মিয়ার তৃতীয় স্ত্রী।
নির্যাতনের অভিযোগ
স্থানীয় ও প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে, হানিফ মিয়া একাধিক মামলার আসামি ও এলাকায় উশৃঙ্খল প্রকৃতির ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন এবং মাঝে মাঝে গ্রামে এসে আমেনা বেগমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। অভিযোগ রয়েছে, রোববার দুপুরেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটে।
পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ও মরদেহ উদ্ধার
প্রতিবেশীরা জানান, ইফতারের আগে হানিফ মিয়াকে তড়িঘড়ি করে সাইকেলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকে দেখতে পান, গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বাঁধা আমেনার নিথর দেহ মেঝেতে পড়ে আছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর সোমবার দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বক্তব্য
বেতকাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন,
“ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এলাকাবাসীর ধারণা, গৃহবধূকে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যার দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশকে জানানো হলে তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।”
পুলিশের বক্তব্য
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান বলেন,
“স্থানীয়দের খবরে ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। রিপোর্টে হত্যার আলামত পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী হানিফ মিয়া পলাতক রয়েছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।










