আজ ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
- আপডেট সময় : ০৮:৩৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৭৫ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকায় পৌঁছাচ্ছেন। কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।
রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও ইমিগ্রেশন সূত্র কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ সময় বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের কর্মকর্তারা নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানাবেন।
দীর্ঘদিন শূন্য থাকা ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের পদ ক্রিস্টেনসেনের আগমনের মধ্য দিয়ে পূর্ণ হতে যাচ্ছে। গত ৯ জানুয়ারি (স্থানীয় সময়) ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি। শপথ অনুষ্ঠানে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, “বাংলাদেশে ফিরে আসতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। এই দেশটি আমি খুব ভালোভাবে জানি।” তিনি যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মার্কিন ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের কাউন্সেলর র্যাংকের সদস্য। এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডে বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর কর্মজীবনে ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটিতে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পর করণীয়
ঢাকায় পৌঁছানোর পর ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করবেন। এরপর তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সবার মতামত শুনবেন। পাশাপাশি নির্বাচন যাতে স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়—সে লক্ষ্যে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করবেন।
এ ছাড়া মানবাধিকার পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক বাধা হ্রাস এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো তার অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা আরও গভীর করার উদ্যোগও নেবেন তিনি।
কূটনৈতিক গুরুত্ব
সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বিদায়ের পর ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দীর্ঘদিন রাষ্ট্রদূতের পদ শূন্য থাকার পর ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের আগমনকে কূটনৈতিক মহল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ সম্পর্কে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা ও গভীর পরিচিতি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন স্থিতিশীলতা ও গতি আনবে।
সিনেট শুনানিতে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার, রোহিঙ্গা সংকট এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তার নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।










