কবি নজরুলের সমাধির পাশেই অবস্থিত হল শহীদ ওসমান হাদির সমাধিস্থল।
- আপডেট সময় : ০১:০৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ১৪২ বার পড়া হয়েছে

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
এর আগে দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মী এবং পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো মানুষ জানাজায় শরিক হন।
সকাল থেকেই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মানুষের ঢল নামে। সকাল ১০টার দিকে মানিক মিয়া এভিনিউতে অপেক্ষমাণ ছাত্র-জনতাকে প্লাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। চীন থেকে আনা আটটি আর্চওয়ে গেট দিয়ে সারিবদ্ধভাবে হাজারো মানুষ প্লাজায় প্রবেশ করেন। দুপুর ২টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায় সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ মিছিল নিয়ে সংসদ ভবন এলাকায় জড়ো হন।
জানাজা শেষে মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
জানাজার আগে বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “শরীফ ওসমান হাদির মন্ত্র ছিল— ‘বল বীর, চির উন্নত মম শির।’ তিনি আমাদের মাথা নত না করার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। এই মন্ত্র আমাদের অন্তরে থাকবে।”
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, হাদির ওপর হামলার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদাবক্স চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ জনগণের সামনে তুলে ধরার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তার মৃত্যুতে শনিবার দেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়।










