ঢাকা ০১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

নীলফামারীতে স্থাপিত হচ্ছে চীনের উপহারে

  • আপডেট সময় : ০৬:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৬৫ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীতে স্থাপিত হচ্ছে চীনের উপহারে

নীলফামারীতে উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। চীনের অনুদানে নির্মিত হতে যাচ্ছে ১ হাজার শয্যার আধুনিক “Bangladesh-China Friendship General Hospital”। স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে এটি হবে উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান।

চূড়ান্ত হলো স্থানের সিদ্ধান্ত

দীর্ঘদিনের আলোচনা ও স্থান নিয়ে টানাপোড়েন শেষে সরকার নীলফামারী সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের দারোয়ানী টেক্সটাইল মাঠকেই হাসপাতাল নির্মাণের জন্য নির্ধারণ করেছে। প্রায় ২৫ একর জায়গা এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব ফাতিমা-তুজ-জোহরা ঠাকুর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তুতি নিতে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, “প্রস্তাবিত স্থানে যথেষ্ট সরকারি জমি রয়েছে। হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত ২৫ একর জমির প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।”

গণপূর্ত বিভাগের প্রস্তুতি

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাকিউজ্জামান বলেন, “চিঠি পাওয়ার পর থেকেই আমরা ডিজিটাল সার্ভে শুরু করেছি। প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থাপনার নকশা ও অন্যান্য দিক চূড়ান্ত করা হবে।”

এর আগে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হারুন অর রশিদ সরেজমিন পরিদর্শনে এসে প্রস্তাবিত স্থানের অবকাঠামোগত সুবিধা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মূল্যায়ন করেন।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা

চীন সরকারের সহযোগিতায় নির্মিত এই হাসপাতালটি চালু হলে উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীমুখী রোগীদের এবার আর দূর যেতে হবে না।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও নীলফামারী-২ আসনের প্রার্থী এএইচএম সাইফুল্লাহ রুবেল বলেন, “এই হাসপাতাল শুধু স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নই নয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়াবে। এটি নীলফামারীর উন্নয়নের নতুন দ্বার খুলবে।”

একইভাবে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, “এত বড় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নীলফামারীতে স্থাপন হওয়া গর্বের বিষয়। এটি উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।”

অর্থনীতি ও উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা

নীলফামারী চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি সোহেল পারভেজ বলেন, “টেক্সটাইল মাঠের জায়গাটি হাসপাতালের জন্য যথাযথ। এতে চিকিৎসা সুবিধা যেমন বাড়বে, তেমনি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও বিকশিত হবে।”

আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতাল

হাসপাতালটিতে থাকবে বিশেষায়িত চিকিৎসা বিভাগ, প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও নার্স, জরুরি সেবা ইউনিট এবং উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নীলফামারীসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে নতুন যুগের সূচনা হবে।

উপসংহার

যে প্রকল্প নিয়ে এতদিন বিতর্ক চলছিল, তা এখন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। চীনের সহায়তায় ‘Bangladesh-China Friendship General Hospital’ স্থাপিত হলে উত্তরবঙ্গের মানুষ পাবে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা, যা দেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নীলফামারীতে স্থাপিত হচ্ছে চীনের উপহারে

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫

নীলফামারীতে উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। চীনের অনুদানে নির্মিত হতে যাচ্ছে ১ হাজার শয্যার আধুনিক “Bangladesh-China Friendship General Hospital”। স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে এটি হবে উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান।

চূড়ান্ত হলো স্থানের সিদ্ধান্ত

দীর্ঘদিনের আলোচনা ও স্থান নিয়ে টানাপোড়েন শেষে সরকার নীলফামারী সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের দারোয়ানী টেক্সটাইল মাঠকেই হাসপাতাল নির্মাণের জন্য নির্ধারণ করেছে। প্রায় ২৫ একর জায়গা এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপসচিব ফাতিমা-তুজ-জোহরা ঠাকুর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে— জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তুতি নিতে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, “প্রস্তাবিত স্থানে যথেষ্ট সরকারি জমি রয়েছে। হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত ২৫ একর জমির প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।”

গণপূর্ত বিভাগের প্রস্তুতি

গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাকিউজ্জামান বলেন, “চিঠি পাওয়ার পর থেকেই আমরা ডিজিটাল সার্ভে শুরু করেছি। প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থাপনার নকশা ও অন্যান্য দিক চূড়ান্ত করা হবে।”

এর আগে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হারুন অর রশিদ সরেজমিন পরিদর্শনে এসে প্রস্তাবিত স্থানের অবকাঠামোগত সুবিধা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মূল্যায়ন করেন।

উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা

চীন সরকারের সহযোগিতায় নির্মিত এই হাসপাতালটি চালু হলে উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীমুখী রোগীদের এবার আর দূর যেতে হবে না।

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও নীলফামারী-২ আসনের প্রার্থী এএইচএম সাইফুল্লাহ রুবেল বলেন, “এই হাসপাতাল শুধু স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নই নয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়াবে। এটি নীলফামারীর উন্নয়নের নতুন দ্বার খুলবে।”

একইভাবে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, “এত বড় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল নীলফামারীতে স্থাপন হওয়া গর্বের বিষয়। এটি উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।”

অর্থনীতি ও উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা

নীলফামারী চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি সোহেল পারভেজ বলেন, “টেক্সটাইল মাঠের জায়গাটি হাসপাতালের জন্য যথাযথ। এতে চিকিৎসা সুবিধা যেমন বাড়বে, তেমনি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও বিকশিত হবে।”

আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতাল

হাসপাতালটিতে থাকবে বিশেষায়িত চিকিৎসা বিভাগ, প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও নার্স, জরুরি সেবা ইউনিট এবং উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নীলফামারীসহ পুরো উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে নতুন যুগের সূচনা হবে।

উপসংহার

যে প্রকল্প নিয়ে এতদিন বিতর্ক চলছিল, তা এখন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। চীনের সহায়তায় ‘Bangladesh-China Friendship General Hospital’ স্থাপিত হলে উত্তরবঙ্গের মানুষ পাবে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা, যা দেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

শেয়ার করুন