নরসিংদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি নূরা গ্রেফতার
- আপডেট সময় : ০৮:০৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১১৯ বার পড়া হয়েছে

নরসিংদী প্রতিনিধি | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬:
নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের মাওনা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি সরিষা ক্ষেত থেকে ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধর্ষণের বিচার চাওয়ার জেরে তাকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহত কিশোরীর মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২–৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে নামোল্লেখ করা আসামিরা হলেন— নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), মো. গাফফার (৩৭), সাবেক ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তার ছেলে ইমরান দেওয়ান (৩২), ইছহাক ওরফে ইছা (৪০), আবু তাহের (৫০) ও মো. আইয়ুব (৩০)।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে আহাম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার হন প্রধান অভিযুক্ত নূরা।
বিএনপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার
ঘটনার পর আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে সদর উপজেলা বিএনপি। শুক্রবার রাতে দলটির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরার সঙ্গে কিশোরীর পূর্বপরিচয় ছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন তরুণ কিশোরীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার বিচার চেয়ে পরিবার মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ানের দ্বারস্থ হয়।
পরিবারের অভিযোগ, বিচার না করে তিনি অভিযুক্তদের সঙ্গে সমঝোতা করে অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেন। এমনকি পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
গত বুধবার রাতে কিশোরীর বাবা তাকে খালার বাড়িতে রেখে আসার পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে সরিষা ক্ষেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, প্রধান অভিযুক্ত নূরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।










