জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি সুরক্ষায় অধ্যাদেশ জারি, মামলা প্রত্যাহারের বিধান
- আপডেট সময় : ০২:০৮:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১৭১ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা:
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা প্রদান এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে সরকার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। খবর বাসসের।
এর আগে, গত ১৫ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। অধ্যাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে। সরকার কর্তৃক প্রত্যয়ন সাপেক্ষে কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে চলমান মামলা বা আইনি কার্যধারা থাকলে, পাবলিক প্রসিকিউটরের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে সেসব মামলা প্রত্যাহার করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অব্যাহতি বা খালাস প্রদান করবেন।
তবে অধ্যাদেশে একটি ব্যতিক্রমী বিধানও রাখা হয়েছে। কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে যদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ ওঠে, সে ক্ষেত্রে বিষয়টি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে। কমিশন ওই অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা নেবে। তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি যদি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে কর্মরত থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর বর্তমান কিংবা সাবেক কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
তদন্ত চলাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে, তদন্তকারী কর্মকর্তাকে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, কমিশনের তদন্তে যদি প্রতীয়মান হয় যে অভিযোগে উল্লিখিত কার্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তবে কমিশন সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। আদালত ওই প্রতিবেদনকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করবেন।
অন্যদিকে, কমিশনের তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে অভিযোগে উল্লিখিত কার্য রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তবে কমিশন প্রয়োজন মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারকে নির্দেশ দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কার্য–সম্পর্কিত বিষয়ে কোনো আদালতে মামলা করা যাবে না কিংবা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না বলে অধ্যাদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে।










