প্রতিশোধের রাজনীতি জাতিকে সংকটে ফেলেছে, সমাধান সংলাপেই সম্ভব: তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ০৬:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২২৮ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতি যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, তার সুস্পষ্ট উদাহরণ জাতি ইতোমধ্যেই প্রত্যক্ষ করেছে—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিণতি কী হতে পারে, আমরা ৫ই আগস্ট দেখেছি।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি অতীতের সহিংস ও অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করেন, যা রাষ্ট্র ও সমাজ—উভয়ের জন্যই গভীর ক্ষতির কারণ হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, একটি বহুদলীয় ও গণতান্ত্রিক সমাজে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে সেই মতপার্থক্য যদি আলোচনার পরিবর্তে প্রতিহিংসা ও সংঘাতের পথে পরিচালিত হয়, তাহলে তা আর রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকে না—তা পরিণত হয় জাতীয় সংকটে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলে সংকট নিরসন সম্ভব। কোনোভাবেই যেন তা সংঘাত ও শত্রুতায় রূপ না নেয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের এই বক্তব্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। দীর্ঘদিন ধরে সংঘাতনির্ভর রাজনীতি, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং প্রতিশোধমূলক সিদ্ধান্ত দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করেছে। এমন বাস্তবতায় সংলাপ, সহনশীলতা ও রাজনৈতিক পরিপক্বতার ওপর গুরুত্বারোপ একটি দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচায়ক।
বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে ইঙ্গিত দেন যে, প্রতিশোধের রাজনীতি কোনো পক্ষকেই দীর্ঘমেয়াদে লাভবান করে না। বরং এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে, সামাজিক বিভাজন বাড়ায় এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এর বিপরীতে আলোচনা, সমঝোতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাই হতে পারে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের কার্যকর পথ।
রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি চেয়ারম্যানের এই বক্তব্য ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে সংঘাত কমিয়ে একটি সংলাপনির্ভর পরিবেশ তৈরির আহ্বান হিসেবে বিবেচিত হবে। বিশেষ করে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তার এই অবস্থান জাতীয় ঐক্য, সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে এনেছে।










