টাকার অভাবে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে দগ্ধ গৃহবধূকে বাসে করে রংপুরে নেওয়া হচ্ছে।
- আপডেট সময় : ০৮:৫৪:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১১ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা এক দগ্ধ গৃহবধূকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তবে চরম দারিদ্র্যের কারণে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া জোগাড় করতে না পারায় বাধ্য হয়ে সাধারণ যাত্রীবাহী বাসেই তাকে নিয়ে রওনা দিয়েছে অসহায় পরিবারটি।
বাসের একটি সিটে শুয়ে আছেন আগুনে মারাত্মকভাবে দগ্ধ গৃহবধূ আছমা বেগম। প্রতিটি ঝাঁকুনিতে কেঁপে উঠছে তার ক্ষতবিক্ষত শরীর। ব্যথায় কাতরাতে কাতরাতে নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে তার। পাশে বসে আছেন স্বামী আলম আকন্দ—পেশায় কাঠমিস্ত্রি। স্ত্রীর হাত শক্ত করে ধরে একের পর এক দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন তিনি। চোখের পানি গোপন করতে পারছেন না, মুখে শুধু আল্লাহর কাছে প্রার্থনা।
ঘটনাটি ঘটে গত ১০ জানুয়ারি সকালে। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের তরফমহদী উত্তরপাড়া গ্রামে রান্নার সময় অসতর্কতাবশত আছমা বেগমের পরনের কাপড়ে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই তার শরীরের বড় একটি অংশ মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। দারিদ্র্যের কারণে শুরুতে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শে বুধবার তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া জোগাড় করতে না পারায় সাধারণ বাসে করেই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা করতে হয়েছে।
আছমা বেগমের সংসারে রয়েছে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। বাড়িতে থাকা শিশুরা মায়ের অসুস্থতার খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েছে। বাসের পাশের সিটে বসে থাকা ছোট্ট মেয়েটির চোখের জল যেন সমাজের বিবেককে নাড়া দিচ্ছে—
“আম্মুকে বাঁচানোর জন্য কেউ কি একটু সাহায্য করবে না?”
অসহায় পরিবারটি এখন স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে জরুরি মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে একটি মায়ের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং তিনটি শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার অন্ধকারে তলিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা করছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।
সহায়তা ও যোগাযোগ
🔹 ভাই জোসেপ (বিকাশ/নগদ): ০১৭৮১৬০১৩১৬
🔹 মো. আলম আকন্দ (স্বামী): ০১৩৪৬৩১০৭২৯
মানবিক সহানুভূতি ও সামান্য সহযোগিতাই পারে একটি মায়ের জীবন বাঁচাতে—এই আশাতেই তাকিয়ে আছে অসহায় পরিবারটি।










