জুলাইযোদ্ধা সুরভীকে গ্রেপ্তার: তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ আদালতের।
- আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ১২৬ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর প্রতিনিধি :
চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগে জুলাইযোদ্ধা সুরভীর বয়স নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো এবং রিমান্ড আবেদন সংক্রান্ত অনিয়মের ঘটনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সৈয়দ ফজলুল মাহদী এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুরের আদালত থেকে পুলিশ সুপার বরাবর এ বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
মামলার পটভূমি
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর সুরভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ২৮ ডিসেম্বর তার পরিবারের পক্ষ থেকে জামিন আবেদন করা হলে অভিযোগ জামিন অযোগ্য হওয়ায় আদালত তা নামঞ্জুর করেন। পরদিন ২৯ ডিসেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের (রিমান্ড) আবেদন করেন এবং শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয় ৩১ ডিসেম্বর।
তবে সরকারি ছুটি ও এক আইনজীবীর মৃত্যুর কারণে শুনানি পিছিয়ে ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন সুরভীকে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ হাজির করা হলে বিচারক সৈয়দ ফজলুল মাহদী দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বয়স বিতর্ক ও আদালতের হস্তক্ষেপ
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুরভীর একটি জন্মসনদ ছড়িয়ে পড়লে তার বয়স নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আদালতের নজরে এলে একই দিন বিকেলে সুরভীর পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাশেদ খান রিমান্ড আদেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এ রিভিশন আবেদন করেন।
সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালতের বিচারক ও ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ অমিত কুমার দে সুরভীর রিমান্ড বাতিল করে চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
আদালত একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। এ আদেশের অনুলিপি গাজীপুরের পুলিশ সুপার, কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এবং কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন আদালতের আদেশ ও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।










