ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে: ১২ ফেব্রুয়ারিতেই সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে

  • আপডেট সময় : ০৯:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১০৪ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে: ১২ ফেব্রুয়ারিতেই সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে

ডেস্ক রিপোর্ট | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬:
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একদিন আগেও বা পরেও নয়—নির্ধারিত তারিখেই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক—সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গোম্বিস ও সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মর্স ট্যান—এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া খবর ও মিসইনফরমেশন ছড়ানো হচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচার সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি থেকে একচুলও সরে আসবে না। নির্বাচন শেষে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে। নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে পক্ষপাতমুক্ত প্রশাসন পরিচালনা করবে।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন ছাড়াও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও এর পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের ভূমিকা, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকে ঘিরে ছড়ানো ভুয়া খবর, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। জনগণের সম্মতি পেলে জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের একটি নতুন যুগের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের পথ চিরতরে রুদ্ধ হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করতে পারছে।

এ সময় সাবেক মার্কিন কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস বলেন, ভুয়া খবর বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শত্রুতে পরিণত হয়েছে এবং এ হুমকি মোকাবিলায় আরও জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন।

বৈঠকে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার এই প্রক্রিয়া খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের সময় এখনও আসেনি।

তিনি বলেন, “ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন তখনই সম্ভব, যখন কেউ নিজের অপরাধ স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়। কিন্তু যারা জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বর্বরোচিত অপরাধ করেছে, তারা এখনও তা অস্বীকার করছে। এমনকি নিহত তরুণদের সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত দাবি করছে। অপরাধের বিপুল প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাদের কোনো অনুশোচনা নেই।”

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে: ১২ ফেব্রুয়ারিতেই সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে

আপডেট সময় : ০৯:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬:
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একদিন আগেও বা পরেও নয়—নির্ধারিত তারিখেই নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক—সাবেক ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট আলবার্ট গোম্বিস ও সাবেক অ্যাম্বাসাডর-অ্যাট-লার্জ মর্স ট্যান—এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া খবর ও মিসইনফরমেশন ছড়ানো হচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচার সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি থেকে একচুলও সরে আসবে না। নির্বাচন শেষে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে। নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে পক্ষপাতমুক্ত প্রশাসন পরিচালনা করবে।

প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন ছাড়াও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও এর পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের ভূমিকা, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকে ঘিরে ছড়ানো ভুয়া খবর, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। জনগণের সম্মতি পেলে জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের একটি নতুন যুগের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের পথ চিরতরে রুদ্ধ হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। তবে জনগণ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করতে পারছে।

এ সময় সাবেক মার্কিন কূটনীতিক আলবার্ট গোম্বিস বলেন, ভুয়া খবর বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শত্রুতে পরিণত হয়েছে এবং এ হুমকি মোকাবিলায় আরও জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন।

বৈঠকে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার এই প্রক্রিয়া খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের সময় এখনও আসেনি।

তিনি বলেন, “ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন তখনই সম্ভব, যখন কেউ নিজের অপরাধ স্বীকার করে অনুতপ্ত হয়। কিন্তু যারা জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বর্বরোচিত অপরাধ করেছে, তারা এখনও তা অস্বীকার করছে। এমনকি নিহত তরুণদের সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত দাবি করছে। অপরাধের বিপুল প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাদের কোনো অনুশোচনা নেই।”

শেয়ার করুন