র্যাবের নাম পরিবর্তন করে রাখা হলো ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ)
- আপডেট সময় : ০৮:৫৫:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২৬৩ বার পড়া হয়েছে

র্যাবের নাম পরিবর্তন করে রাখা হলো ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ)
নিজস্ব প্রতিবেদক :
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ) রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কোর কমিটির সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সভায় র্যাবের নাম ও পোশাক পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে। বাহিনিটিকে নতুনভাবে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সর্বস্তরের মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে জঙ্গিবাদের উত্থান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, আনসার ও ভিডিপি, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের সদস্যদের সমন্বয়ে র্যাব গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধ’-এর নামে শত শত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিএনপি সরকারের পর আওয়ামী লীগ আমলেও এসব অভিযোগের ধারাবাহিকতা দেখা যায়।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একাধিকবার র্যাব বিলুপ্তির আহ্বান জানালেও তৎকালীন সরকারগুলো তাতে সাড়া দেয়নি। এমনকি র্যাব গঠনের সময় ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ আমলে র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানান।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র সরকার র্যাব ও এর কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর থেকে বাহিনীর ‘ক্রসফায়ার’ কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।
সবশেষ ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনকালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) এক প্রতিবেদনে র্যাব বিলুপ্তির পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) কেবল সীমান্তরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা পরিদপ্তরকে শুধুমাত্র সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ রাখার সুপারিশ করে।
তবে এসব আহ্বানের পরিবর্তে র্যাব গঠনের ২২ বছর পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাহিনীটির নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল।










