ঢাকা ০১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

সাদুল্লাপুরে আদালতের রায়ে ১৪১.৫ শতাংশ জমির দখল পেলেন বাদীপক্ষ

  • আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫৫ বার পড়া হয়েছে

সাদুল্লাপুরে আদালতের রায়ে ১৪১.৫ শতাংশ জমির দখল পেলেন বাদীপক্ষ

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের অবসান ঘটিয়ে আদালতের রায় ও কমিশনের মাধ্যমে ১৪১ দশমিক ৫ শতাংশ জমির দখল বুঝে পেয়েছেন বাদীপক্ষ। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতের নাজির, আইনজীবী, জারিকারকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জমিগুলো বাদীপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামের সাতটি দাগে থাকা এসব জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৩৬/০৮ নম্বর মামলায় ২০১৮ সালে রায় ও প্রাথমিক ডিক্রি হয়। পরবর্তীতে ওই রায়ের বিরুদ্ধে বিবাদীপক্ষ আপিল করলে ১০৭/১৮ নম্বর মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

এরপর চলতি বছরের ১ মার্চ পুনরায় ১৩৬/০৮ নম্বর মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। চূড়ান্ত ডিক্রির শুনানি ও কমিশন কার্যক্রম শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার সাতটি দাগে মোট ১৪১ দশমিক ৫ শতাংশ জমি বাদীপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

বাদীপক্ষের দাবি, কবলা ও পৈতৃক সূত্রে তারা ওই জমির মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকারী। তবে একপর্যায়ে বিবাদীপক্ষ জমিটি দখলে নেয়। পরে বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমে পুনরায় জমির দখল ফিরে পেয়েছেন বলে জানান তারা।

জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সময় বাদীপক্ষের লোকজন ঢোল পিটিয়ে ও লাল নিশান স্থাপন করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জমির সীমানা চিহ্নিত করেন। এ সময় গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী আলহাজ্ব আজিজুল ইসলাম, জারিকারক শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বাদীপক্ষের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ আলীর ছেলে তমিজ উদ্দিন, তমিজ উদ্দিনের ছেলে তৌকিত আহমেদ, নুর আলম সিদ্দিক ও তমিজ উদ্দিনের স্ত্রী কাছমতি বেগম।

অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের মধ্যে রয়েছেন হিংগারপাড়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে আজগর আলী, মৃত নওশা মিয়ার স্ত্রী শেফালী, নওশা মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর, আলমগীর ও সজীব, মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে জিল্লুর রহমান, তছির উদ্দিনের ছেলে সেকেন্দার এবং ফজল মিয়ার ছেলে দুদু।

বিবাদীপক্ষ এ বিষয়ে আপত্তি জানালেও আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়ে তারা পুনরায় আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিরোধপূর্ণ জমিটি একসময় বাদীপক্ষ ভোগদখল করলেও পরবর্তীতে তা বিবাদীপক্ষের দখলে চলে যায়। পরে বাদীপক্ষ আদালতের আশ্রয় নেয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার জমির দখল পুনরায় বাদীপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের মতে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়ায় জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ায় দীর্ঘদিনের বিরোধের একটি আইনি সমাধান হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে জমি ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষের সদস্যরা।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাদুল্লাপুরে আদালতের রায়ে ১৪১.৫ শতাংশ জমির দখল পেলেন বাদীপক্ষ

আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৪০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের অবসান ঘটিয়ে আদালতের রায় ও কমিশনের মাধ্যমে ১৪১ দশমিক ৫ শতাংশ জমির দখল বুঝে পেয়েছেন বাদীপক্ষ। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতের নাজির, আইনজীবী, জারিকারকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জমিগুলো বাদীপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামের সাতটি দাগে থাকা এসব জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৩৬/০৮ নম্বর মামলায় ২০১৮ সালে রায় ও প্রাথমিক ডিক্রি হয়। পরবর্তীতে ওই রায়ের বিরুদ্ধে বিবাদীপক্ষ আপিল করলে ১০৭/১৮ নম্বর মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।

এরপর চলতি বছরের ১ মার্চ পুনরায় ১৩৬/০৮ নম্বর মামলার কার্যক্রম শুরু হয়। চূড়ান্ত ডিক্রির শুনানি ও কমিশন কার্যক্রম শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার সাতটি দাগে মোট ১৪১ দশমিক ৫ শতাংশ জমি বাদীপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

বাদীপক্ষের দাবি, কবলা ও পৈতৃক সূত্রে তারা ওই জমির মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকারী। তবে একপর্যায়ে বিবাদীপক্ষ জমিটি দখলে নেয়। পরে বিষয়টি নিয়ে তারা আদালতের শরণাপন্ন হন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ের মাধ্যমে পুনরায় জমির দখল ফিরে পেয়েছেন বলে জানান তারা।

জমি বুঝিয়ে দেওয়ার সময় বাদীপক্ষের লোকজন ঢোল পিটিয়ে ও লাল নিশান স্থাপন করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী জমির সীমানা চিহ্নিত করেন। এ সময় গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী আলহাজ্ব আজিজুল ইসলাম, জারিকারক শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বাদীপক্ষের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ আলীর ছেলে তমিজ উদ্দিন, তমিজ উদ্দিনের ছেলে তৌকিত আহমেদ, নুর আলম সিদ্দিক ও তমিজ উদ্দিনের স্ত্রী কাছমতি বেগম।

অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের মধ্যে রয়েছেন হিংগারপাড়া গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে আজগর আলী, মৃত নওশা মিয়ার স্ত্রী শেফালী, নওশা মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর, আলমগীর ও সজীব, মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে জিল্লুর রহমান, তছির উদ্দিনের ছেলে সেকেন্দার এবং ফজল মিয়ার ছেলে দুদু।

বিবাদীপক্ষ এ বিষয়ে আপত্তি জানালেও আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়ে তারা পুনরায় আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিরোধপূর্ণ জমিটি একসময় বাদীপক্ষ ভোগদখল করলেও পরবর্তীতে তা বিবাদীপক্ষের দখলে চলে যায়। পরে বাদীপক্ষ আদালতের আশ্রয় নেয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার জমির দখল পুনরায় বাদীপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের মতে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত প্রক্রিয়ায় জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ায় দীর্ঘদিনের বিরোধের একটি আইনি সমাধান হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে জমি ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বাদীপক্ষের সদস্যরা।

শেয়ার করুন