জয়-পরাজয় মেনে নিয়ে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে একসাথে কাজ করার প্রত্যয় তিন নেতার।
- আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ১৪২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক উত্তাপ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর এবার জয়-পরাজয় মেনে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে নেতৃবৃন্দ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সহনশীল পরিবেশ বজায় রাখা এবং জাতীয় স্বার্থে সমন্বিত ভূমিকা পালনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের রায়। নির্বাচনে জয়-পরাজয় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও, তা নিয়ে বিভেদ, প্রতিহিংসা কিংবা অস্থিরতা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বরং রাজনৈতিক পরিপক্বতার পরিচয় দিয়ে সবাইকে দেশের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তারা বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে।”
এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের সহিংসতা বা উসকানিতে না জড়িয়ে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই দেশ আমাদের সবার। জাতীয় স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” তিনি সহনশীল ও মূল্যবোধভিত্তিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সংলাপের মাধ্যমেই রাজনৈতিক সংকট নিরসন সম্ভব।
এনসিপির পক্ষ থেকে সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, “রাজনীতি কোনো প্রতিহিংসার জায়গা নয়; এটি জনগণের কল্যাণে কাজ করার একটি মাধ্যম। জয়-পরাজয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের এমন ইতিবাচক ও সংযত বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহনশীলতা বাড়াবে এবং নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকা অপরিহার্য।
সব মিলিয়ে, তিন রাজনৈতিক নেতার এই সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমঝোতার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ।










