ঢাকা ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

তানোরে গর্ত থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু সাজিদ বেঁচে নেই।

  • আপডেট সময় : ০৫:০৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ১৮৯ বার পড়া হয়েছে

তানোরে গর্ত থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু সাজিদ বেঁচে নেই।

নিজেস্ব প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো যায়নি। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তাকে উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

বুধবার বেলা একটার দিকে তানোর উপজেলার কোয়েল হাট পূর্বপাড়া গ্রামে মায়ের সঙ্গে মাঠে গেলে শিশুটি ভূগর্ভস্থ পানি যাচাইয়ের জন্য খনন করা গভীর গর্তে পড়ে যায়। স্থানীয়দের করা প্রাথমিক চেষ্টায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব না হলে দুপুর আড়াইটার দিকে শুরু হয় ফায়ার সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্ধার অভিযান।

একপর্যায়ে উদ্ধার কাজে যোগ দেয় মোট আটটি ইউনিট। মূল গর্তের পাশে এক্সকাভেটর দিয়ে খনন করে ৪৫ ফুট গভীর পর্যন্ত পৌঁছে শিশুটিকে তুলতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। উদ্ধার শেষে প্রস্তুত থাকা অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় তাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও কোনো চিকিৎসক দল উপস্থিত ছিল না। শিশুটিকে উদ্ধার করার পর সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

উদ্ধারের আগেই লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা রাত ৯টায় শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করি। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তার অবস্থা জানাবেন।”

স্থানীয় লোকজন জানান, গ্রামের কছির উদ্দিন কয়েক বছর আগে নিজের জমিতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পরীক্ষা করতে তিনটি গর্ত খনন করেছিলেন। গভীর নলকূপ বসানোর সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই খনন করা হয়। পরে গর্তগুলো ভরাট করা হলেও বর্ষার সময় মাটি বসে গিয়ে আবারও গভীর গর্ত তৈরি হয়। সেই গর্তেই পড়ে যায় শিশু সাজিদ।

ঘটনার পর বুধবার রাতে শিশুর মা রুনা খাতুনকে গর্তের পাশ থেকে সরিয়ে বাড়িতে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, তিনি শোকে পাথর হয়ে আছেন। পাশে বসে ক্রন্দনরত অবস্থায় আছেন তার মা শেফালী বেগম।

রুনা খাতুন বলেন,
“কছির উদ্দিন তিন জায়গায় গভীর নলকূপ বসানোর জন্য গর্ত খুঁড়েছিল। দুই বছর ধরে এগুলো বন্ধ করেনি। আমার বাচ্চা এভাবে হারিয়ে গেল। আমি কছিরের শাস্তি চাই, তার বিচার চাই।”

পরিবারের দাবি, ঘটনার পর কছির প্রথম দিন একবার এলেও এরপর আর দেখা যায়নি, তিনি পালিয়ে গেছেন।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান বলেন,
“আমাদের সঙ্গে কছিরের দেখা হয়নি, আমরা তাকে পাইনি।”
গ্রেপ্তার করা হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন, তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিশু সাজিদের মৃত্যুর খবরে কোয়েল হাট গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়রা জানান, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এমন বিপজ্জনক গর্ত খোঁড়া এবং তা নিরাপদভাবে ভরাট না করার অবহেলাই এ মর্মান্তিক ঘটনার কারণ।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তানোরে গর্ত থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু সাজিদ বেঁচে নেই।

আপডেট সময় : ০৫:০৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

তানোরে গর্ত থেকে উদ্ধার হওয়া শিশু সাজিদ বেঁচে নেই।

নিজেস্ব প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোর উপজেলায় গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু সাজিদকে ৩২ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হলেও বাঁচানো যায়নি। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তাকে উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

বুধবার বেলা একটার দিকে তানোর উপজেলার কোয়েল হাট পূর্বপাড়া গ্রামে মায়ের সঙ্গে মাঠে গেলে শিশুটি ভূগর্ভস্থ পানি যাচাইয়ের জন্য খনন করা গভীর গর্তে পড়ে যায়। স্থানীয়দের করা প্রাথমিক চেষ্টায় তাকে উদ্ধার করা সম্ভব না হলে দুপুর আড়াইটার দিকে শুরু হয় ফায়ার সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্ধার অভিযান।

একপর্যায়ে উদ্ধার কাজে যোগ দেয় মোট আটটি ইউনিট। মূল গর্তের পাশে এক্সকাভেটর দিয়ে খনন করে ৪৫ ফুট গভীর পর্যন্ত পৌঁছে শিশুটিকে তুলতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। উদ্ধার শেষে প্রস্তুত থাকা অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয় তাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও কোনো চিকিৎসক দল উপস্থিত ছিল না। শিশুটিকে উদ্ধার করার পর সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

উদ্ধারের আগেই লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা রাত ৯টায় শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করি। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তার অবস্থা জানাবেন।”

স্থানীয় লোকজন জানান, গ্রামের কছির উদ্দিন কয়েক বছর আগে নিজের জমিতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পরীক্ষা করতে তিনটি গর্ত খনন করেছিলেন। গভীর নলকূপ বসানোর সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই খনন করা হয়। পরে গর্তগুলো ভরাট করা হলেও বর্ষার সময় মাটি বসে গিয়ে আবারও গভীর গর্ত তৈরি হয়। সেই গর্তেই পড়ে যায় শিশু সাজিদ।

ঘটনার পর বুধবার রাতে শিশুর মা রুনা খাতুনকে গর্তের পাশ থেকে সরিয়ে বাড়িতে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, তিনি শোকে পাথর হয়ে আছেন। পাশে বসে ক্রন্দনরত অবস্থায় আছেন তার মা শেফালী বেগম।

রুনা খাতুন বলেন,
“কছির উদ্দিন তিন জায়গায় গভীর নলকূপ বসানোর জন্য গর্ত খুঁড়েছিল। দুই বছর ধরে এগুলো বন্ধ করেনি। আমার বাচ্চা এভাবে হারিয়ে গেল। আমি কছিরের শাস্তি চাই, তার বিচার চাই।”

পরিবারের দাবি, ঘটনার পর কছির প্রথম দিন একবার এলেও এরপর আর দেখা যায়নি, তিনি পালিয়ে গেছেন।

তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুজ্জামান বলেন,
“আমাদের সঙ্গে কছিরের দেখা হয়নি, আমরা তাকে পাইনি।”
গ্রেপ্তার করা হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন, তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিশু সাজিদের মৃত্যুর খবরে কোয়েল হাট গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়রা জানান, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এমন বিপজ্জনক গর্ত খোঁড়া এবং তা নিরাপদভাবে ভরাট না করার অবহেলাই এ মর্মান্তিক ঘটনার কারণ।

শেয়ার করুন