ঢাকা ০২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমীন হ*ত্যা: আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেন আসামি সাদুল্লাপুরে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে গেলেন সাকিব, দেখতে জনতার ভিড় আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করতে লাগবে গণভোট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রংপুরে ৫০ কেজি কষ্টিপাথর উদ্ধার, আটক ২ বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলায় জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতির গভীর শোক সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের নতুন ইউনিট, জনবল ৪ হাজার ৫৯২ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে শ্রীপুরে অভিভাবকের সন্ধানে শিশু, নিরাপদে রাখা হয়েছে দোকানে

নতুন সরকারের শপথ কে পড়াবেন? যা বলছে সংবিধান

  • আপডেট সময় : ০৮:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ১০৭ বার পড়া হয়েছে

নতুন সরকারের শপথ কে পড়াবেন? যা বলছে সংবিধান

ডেস্ক রিপোর্ট :
ঐতিহাসিক এক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। সব জল্পনা-কল্পনা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শেষ হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোট।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনের ৪২ হাজারের বেশি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটদান সম্পন্ন হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি জোট।

ফলাফল ঘোষণার পর জনগণের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—নতুন সরকারের শপথগ্রহণ প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে এবং কে শপথ পাঠ করাবেন?

শপথ কে পড়াবেন?

সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব জাতীয় সংসদের স্পিকারের। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বর্তমানে সংসদ নেই, নেই স্পিকারও। ফলে শপথ আয়োজন ও পরিচালনা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

এ বিষয়ে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি শপথ পাঠ করাবেন। যদি রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি কোনো কারণে তা করতে ব্যর্থ হন, তাহলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন।

অর্থাৎ—
১. রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য কাউকে মনোনীত করতে পারেন।
২. তিন দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি শপথ করাতে না পারলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন।

আইন উপদেষ্টার বক্তব্য

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত ৫ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরই সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, “আমাদের সামনে দুটি বিকল্প রয়েছে। রাষ্ট্রপতি চাইলে প্রধান বিচারপতিসহ কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে শপথ পাঠের জন্য মনোনীত করতে পারেন। আর যদি তা না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন। তবে এ ক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার অপেক্ষা করতে চায় না। যত দ্রুত সম্ভব নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ আয়োজন করে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন করতে চায়।”

শপথ কত দিনের মধ্যে?

সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে হবে। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলকে আনুষ্ঠানিক হিসেবে গণ্য করা হয় না। ফলে প্রজ্ঞাপন প্রকাশে সময় লাগলে শপথ গ্রহণেও কয়েক দিন বিলম্ব হতে পারে।

শেয়ার করুন
ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নতুন সরকারের শপথ কে পড়াবেন? যা বলছে সংবিধান

আপডেট সময় : ০৮:২৬:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট :
ঐতিহাসিক এক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। সব জল্পনা-কল্পনা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শেষ হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোট।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনের ৪২ হাজারের বেশি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোটদান সম্পন্ন হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি জোট।

ফলাফল ঘোষণার পর জনগণের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—নতুন সরকারের শপথগ্রহণ প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে এবং কে শপথ পাঠ করাবেন?

শপথ কে পড়াবেন?

সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব জাতীয় সংসদের স্পিকারের। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বর্তমানে সংসদ নেই, নেই স্পিকারও। ফলে শপথ আয়োজন ও পরিচালনা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

এ বিষয়ে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যদের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি শপথ পাঠ করাবেন। যদি রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি কোনো কারণে তা করতে ব্যর্থ হন, তাহলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন।

অর্থাৎ—
১. রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করানোর জন্য কাউকে মনোনীত করতে পারেন।
২. তিন দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি শপথ করাতে না পারলে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন।

আইন উপদেষ্টার বক্তব্য

এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল গত ৫ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরই সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত।

তিনি বলেন, “আমাদের সামনে দুটি বিকল্প রয়েছে। রাষ্ট্রপতি চাইলে প্রধান বিচারপতিসহ কোনো যোগ্য ব্যক্তিকে শপথ পাঠের জন্য মনোনীত করতে পারেন। আর যদি তা না হয়, তাহলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন। তবে এ ক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার অপেক্ষা করতে চায় না। যত দ্রুত সম্ভব নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ আয়োজন করে ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন করতে চায়।”

শপথ কত দিনের মধ্যে?

সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে হবে। বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলকে আনুষ্ঠানিক হিসেবে গণ্য করা হয় না। ফলে প্রজ্ঞাপন প্রকাশে সময় লাগলে শপথ গ্রহণেও কয়েক দিন বিলম্ব হতে পারে।

শেয়ার করুন