সাদুল্লাপুরে চোরাই মোটরসাইকেল বিক্রির সময় যুবক আটক, সহযোগী পলাতক
- আপডেট সময় : ০৬:১৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ৬৯ বার পড়া হয়েছে

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল বিক্রির সময় স্থানীয়দের হাতে স্বপন মিয়া (২৫) নামে এক যুবক আটক হয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা বেলাল (২৮) নামে অপর এক যুবক কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আটক স্বপনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের মোলংবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট গভীর রাতে ধাপেরহাট ইউনিয়নের ছাইগাড়ী গ্রামের সৈয়দ আলী মন্ডলের ছেলে মিলন মন্ডলের বাড়ির প্রাচীর টপকে চোরের দল ভেতরে প্রবেশ করে। পরে বাড়ির বারান্দায় রাখা বাজাজ ডিসকভার ১২৫ সিসির একটি মোটরসাইকেল বারান্দার গ্রিল কেটে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর মোটরসাইকেলটির মালিক ও পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
শুক্রবার রাতে মোলংবাজার এলাকায় বেলাল ও স্বপন মোটরসাইকেলটি মাত্র ৩০ হাজার টাকায় বিক্রির চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করার চেষ্টা করলে ধাপেরহাট ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মধু মিয়ার ছেলে বেলাল পালিয়ে যায়। তবে স্বপনকে আটক করতে সক্ষম হন তারা।
আটক স্বপন মিয়া একই ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের রাশেদুল ইসলামের ছেলে। পরে স্থানীয়রা তাকে মারধর করে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
স্থানীয়দের দাবি, বেলাল কয়েকদিন আগে নিজের মোটরসাইকেলটি মোলংবাজার এলাকার এক ব্যক্তির কাছে বন্ধক রেখে জুয়া খেলায় অংশ নেন। জুয়ায় টাকা হারানোর পর বন্ধক রাখা মোটরসাইকেলটি ছাড়ানোর জন্য অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় চুরি করা মোটরসাইকেল বিক্রির চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক মাস ধরে কথিত ‘৬ গুটি’সহ বিভিন্ন জুয়ার আসর পরিচালিত হচ্ছে। এসব আসরে প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। জুয়ায় সর্বস্বান্ত হয়ে অনেকে অর্থসংকটে পড়ছেন এবং সেই অর্থের ঘাটতি পূরণ করতে কেউ কেউ চুরি ও অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিয়মিত জুয়ার আসর চলতে থাকলে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে। তাই জুয়ার আসর বন্ধে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও পুলিশের কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, মোটরসাইকেলসহ একজনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মোটরসাইকেলটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পলাতক বেলালকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে কথিত জুয়ার আসরগুলো বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।










