সাদুল্লাপুরে জমি বিরোধের হামলায় আহত যুবকের মৃত্যু: এলাকায় উত্তেজনা
- আপডেট সময় : ০১:০৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
- / ২৭৬ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নলডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হামিদ গ্রামের মাহবুব আলমের ছেলে জাকারিয়া ইসলাম জানিন (১৭) গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রতিবেশী বেলাল গংদের হামলার শিকার হন। দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জাকারিয়াকে বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর বাড়িতেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তবে ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর রোববার (১ মার্চ) ভোরে হঠাৎ করে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরিবারের সদস্যরা জানান, দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই নিজ বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের দাদা শাহা মিয়া অভিযোগ করে বলেন,
“আমার নাতিকে পরিকল্পিতভাবে লাঠিপেটা করা হয়েছে। সেই আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ঘটনার পর উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া গেছে। সর্বশেষ মৃত্যুর ঘটনায় থানায় নতুন করে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে সাদুল্লাপুর থানার এসআই সুজন সরকার, এসআই গোলাম মোস্তফা ও এসআই সবুর সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম বলেন,
“হামলার সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহতের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী বেলাল গংদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। আগেও কয়েক দফা উত্তেজনা ও ঝগড়াঝাঁটির ঘটনা ঘটলেও এবারই প্রথম এমন মর্মান্তিক পরিণতি হলো।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।










